Mohin Arham
Executive Editor
ছবিঃ নববাংলার সৌজন্যে।
ডিসিকে চাকরিতে রাখা হবে তো? কারণ দুর্নীতির টাকা শুধু ভূমি অফিসের নিচের সারির কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ হয়—এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন। কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে থাকে, তাহলে সেই পদে বহাল থাকার জন্য তদবির, প্রভাব ও অর্থের প্রয়োজন হয়—এটাই যদি বাস্তবতা হয়, তবে তদন্তের পরিধি শুধু নিচের স্তরে সীমাবদ্ধ রাখলে প্রকৃত চিত্র কখনোই বেরিয়ে আসবে না।
দুর্নীতি দমন করার সত্যিকারের ইচ্ছা থাকলে কোনো কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধারণ করে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজের অফিসে বসেই যদি নিয়ম–কানুন অনুযায়ী কাজ করেন, অধীনস্থদের জবাবদিহির মধ্যে রাখেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন—তাহলেই যথেষ্ট।
এখন জনগণ হয়তো আরেকটি দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় আছে—কোনো একদিন আরও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছদ্মবেশে কোনো সরকারি অফিসে গিয়ে ঘোষণা করবেন, “কোথাও কোনো দুর্নীতি পেলাম না!”
তাহলে কি ধরে নিতে হবে—সরকারি দপ্তরের সবাই ধোয়া তুলসীপাতা, আর দুর্নীতির জন্য দায়ী শুধু সাধারণ জনগণ?
বাস্তবতা হলো, দুর্নীতি কোনো একক কর্মচারীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তাহলে তার শিকড় কোথায় এবং কার ছত্রচ্ছায়ায় তা বিস্তার লাভ করছে—সেটিই খুঁজে বের করা জরুরি।
নিচের স্তরে দু–একজনকে ধরে সংবাদ শিরোনাম তৈরি করা সহজ। কিন্তু দুর্নীতির প্রকৃত শিকড় উপড়ে ফেলা—সেটিই হবে সরকারের আসল পরীক্ষা।